দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জলবায়ু পরিবর্তনে দ্রুত গলছে পৃথিবীর হিমবাহ ও মেরু অঞ্চলের বরফ। বর্তমান নীতিমালা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২.৮ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পানির সংকট ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়বে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
আন্তর্জাতিক ক্রায়োস্ফিয়ার ক্লাইমেট ইনিশিয়েটিভ (আইসিসিআই) ও জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) উদ্যোগে ৮০ জন বিজ্ঞানীর তৈরি এক প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান জলবায়ুনীতি অব্যাহত থাকলে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকা প্রায় সব পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে হিমায়িত মাটি গলে যেতে পারে। একই সঙ্গে রকি পর্বতমালা, আল্পস, আইসল্যান্ড ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার হিমবাহের বরফ বর্তমানের ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসতে পারে।
বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের পানির উৎস হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ। বর্তমান নীতিমালা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের বরফের মাত্র ৪১ শতাংশ টিকে থাকতে পারে। তবে উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা গেলে প্রায় ৮৩ শতাংশ বরফ টিকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও আইসিসিআইয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ জেমস কার্কহাম বলেন, পৃথিবীর তুষার ও বরফাচ্ছাদিত অঞ্চল জলবায়ুব্যবস্থার সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশগুলোর একটি। এসব অঞ্চলের ক্ষতি শুধু মেরু বা পাহাড়ি এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো পৃথিবীকে প্রভাবিত করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফস্তর ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ দ্রুত গলছে। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, পারমাফ্রস্ট গলে অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হলে উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, তাপমাত্রা সাময়িকভাবে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়ালেও তা দ্রুত কমিয়ে আনা জরুরি। কারণ, বরফস্তরের ক্ষতি পূরণ হতে শতাব্দী, এমনকি হাজার বছরও লাগতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ মেয়াদে বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রাক্-শিল্পযুগের তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা এর নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিতে হবে। এ জন্য দ্রুত নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন অপসারণের উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞানীদের মতে, উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রতিটি ভগ্নাংশ কমানোই হিমবাহ, পানির নিরাপত্তা ও পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।তথ্যসূত্র: গার্ডিয়ান
এমজে